leadnewsজাতীয়

অগ্নিকাণ্ড রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন। তাছাড়া এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী এসব ‘অনুশাসন’ দেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার ভবনগুলো পরিদর্শনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২৪টি দল গঠন করেছে। তারা ভবন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এফআর টাওয়ানে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। অনাকঙ্খিত এই দুর্ঘটনায় জাতি গভীরভাবে শোকাহত।’

‘মন্ত্রিসভা এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের জন্য গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছে।’

গত বৃহস্পতিবার বনানীর ২৩ তলাবিশিষ্ট এফাআর টাওয়ারে আগুন লেগে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। আর আহত হয়ে অর্ধশতাধিক মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভয়াবহ ওই আগুনের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় ভবনটির জমির মালিক ও ওপরের কিছু অংশের মালিক গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে রয়েছেন।

অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর যেসব নির্দেশনা

অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- বহুতল ভবন তৈরির সময় ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রের পাশাপাশি সেটা ‘ভায়াবল’ (টেকসই) কিনা নিশ্চিত করা; অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া অনুমোদন কারখানার মতো প্রতি বছর নবায়নের ব্যবস্থা করা।

বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা; এক থেকে তিন মাসের মধ্যে অগ্নি নির্বাপন মহড়া করা; অগ্নিকাণ্ডের সময় ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু এড়াতে ভবনে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অবলম্বন করা; পানির অভাব রোধে যেখানে যেখানে সম্ভব জলাশয় বা জলাধার তৈরি করা; লেকগুলো সংরক্ষণ করা।

বহুতল ভবনে ওঠার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ল্যাডারের সংখ্যা বাড়ানো; প্রকৌশলীরা যেন পরিবেশ ও বাস্তবতার নিরেখে অবকাঠামোর নকশা করেন, তা নিশ্চিত করা; প্রতিটি ভবনে ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা।

অনেক জায়গায় ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফায়ার এক্সিট যেন সব সময় ওপেন থাকে, অর্থাৎ ম্যানুয়ালি যেন তা খোলা যায়; জরুরি প্রয়োজনে মানুষ যেন বহুতল ভবন থেকে তারপুলিনের মাধ্যমে ঝুলে নামতে পারে, সেই পদ্ধতি চালু করা।

প্রতিটি হাসপাতাল ও স্কুলে বারান্দাসহ খোলা জায়গা রাখা নিশ্চিত করা; ভবনে আগুন লাগগে লিফট ব্যবহার না করা; প্রত্যেক ভবনে কমপক্ষে দুটি এক্সিটওয়ে (বাহির হওয়ার পথ) রাখা।সুত্র: ঢাকা টাইমস