সম্পদের লোভে জোর পূর্বক ডেমরায় শিক্ষার্থী অপহরণঃ মামলা
মো. মাহবুবুর রহমান: রাজধানীর ডেমরায় এবার ১০ম শ্রেণীর এক স্কুল শিক্ষার্থী অপহরণ হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার অপহরণের সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে আসামী করে ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করেন ওই শিক্ষার্থীর চাচা। জড়িতরা হলেন- মূল অপহরণকারী বরিশালের উজিরপুর থানার সাতলা গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার ওরফে গেদুর ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম (৩০), সহযোগী তার বড় ভাই মো. আমির হোসেন, বড় বোন মোছা. সেলিনা (৩৫), তার স্বামী একই এলাকার জাফর মিয়া (৫২) ও ভাসুর ওহাব মিয়াসহ (৬০) অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন। তবে ঘটনার পর থেকে আসামীরা বরিশালের কোথাও পালিয়ে রয়েছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অপহৃতের পরিবারের বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই তহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানায়, গত ৩ অক্টোবর সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা অপহরণকারী দলটি মেয়েটিকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসযোগে বরিশালে নিয়ে যায়। পরের দিন দুপুরে মেয়েটির বাড়ীর কেয়ারটেকার মহিলার কাছে ফোন দিয়ে সব ঘটনা জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দেয় মনিরুল। এ ঘটনায় গত ৫ অক্টোবর মেয়ের চাচা ডেমরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এদিকে মেয়েটির বাবা দ্রুত বাংলাদেশে এসে বরিশাল অপহরণকারীদের বাড়ীতে গেলে তাদের পরিবারের লোকজন মেয়েকে ফিরিয়ে না দিয়ে মনিরুলের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দেবে বলে জানায়। পরে বাবা এ খবর তার ভাইকে জানালে এ বিষয়ে ডেমরা থানায় মামলা করেন মেয়ের চাচা।
এসআই তহিদুল আরও জানায়, অপহৃতের বাবা মালয়েশিয়া প্রবাসী একজন বড় ব্যবসায়ী। ওই প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করত অপহরণকারী মনিরুল ইসলাম। বরিশালের পাশাপাশি উপজেলার পরিচিত বাসিন্দা হিসেবে অপহৃতের বাবার মাধ্যমে মালয়েশিয়া যান মনিরুল। কিছুদিন আগে বিশেষ প্রয়োজন দেখিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশে আসে লম্পট মনিরুল। পরে বিদেশ থেকে অপহৃত মেয়ের বাবার পাঠানো মালামাল নিয়ে ডেমরায় তাদের বাসায় আসে সে। পরে ডেমরায় লুকিয়ে মেয়েটির স্কুলে যাতায়াতসহ চলাফেরার নজর রাখত মনিরুল। সম্পদের লোভেই মেয়েটিকে অপহরণ করেছে বলে অপহৃতের পরিবারের দাবি।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার অপারেশন অফিসার স্নেহাশীষ রায় বলেন, অপরাধীদের অবশ্যই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। যেখানেই থাকুক আইনি সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হবে।

You must be logged in to post a comment.