সংরক্ষিত মহিলা আসনে সালমা আলম লিলি কে দেখতে চান দলীয় নেতা-কর্মীরা
বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো.আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও পটুয়াখালী -৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশারেফ হোসেন জয়ী হয়েছেন। আরেকটি আসন রয়েছে পটুয়াখালী-৩। সেটি বিএনপির জোট থেকে গনঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী নূরুল হক নুর জয়ী হয়েছেন। তিনি বর্তমানে একটি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব রয়েছেন। ফলে পটুয়াখালী১,৩ ও ৪ আসনে বিএনপির দখলে থাকলেও দলীয় কোন্দলের কারনে পটুয়াখালী -২ ( বাউফল) আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়েছে। এতে বাউফল উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা নেমে আসে। দিশেহারা হয়ে পড়েন বিএনপির তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দলের এই ক্রান্তিলঘ্নে তৃনমূল নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে সালমা আলম (লিলি) কে দেখতে চান উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, সালমা আলম লিলি তালুকদার একজন দক্ষ ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাউফল উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন। ২০০১ সালে তাঁর স্বামী শহিদুল আলম তালুকদার এই আসনটি প্রথবারের মত বিএনপির হাতে তুলে দেন। আর তখন থেকেই রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ও বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করে আসছিলেন তিনি। যে কারণে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে তাঁকে মনোনয়ন দিয়ে ছিলেন বিএনপির হাইকমান্ড। সেই নির্বাচনে চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদন্ধীতা করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আস্থায় পরিণত হন। এছাড়া বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি উপজেলা থেকে শুরু করে ঢাকার রাজপথ পর্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) মো.তছলিম তালুকদার বলেন, রাজপথের লড়াকু সৈনিক সালমা আলম লিলি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন ধরনের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও উপজেলা বিএনপিকে ধরে রেখেছেন। মানুষের অধিকার রক্ষা ও নারী নেতৃত্ব বিকাশে তার মতো একনিষ্ঠ নেত্রীর সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পাওয়া জরুরি। তিনি নিজের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্য দিয়ে এলাকায় জনগনের সমর্থন গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে বাউফল বিএনপি এক কঠিন সময় পার করছে। জামায়াত প্রার্থীর জয়ের পর নির্বাচনী এলাকায় শতাধিক নেতা-কর্মী দলীয় প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন এবং অনেকের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে। এই সংকটকালে নেতা-কর্মীরা সালমা আলম লিলির মতো পরীক্ষিত নেতৃত্ব দেখতে চায়।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সালমা আলম লিলি বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে বিএনপির রাজনীতি শুরু করি। এরপর গত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিকূল পরিবেশেও ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদন্ধীতা করেছিলাম এবং বিগত দীর্ঘ স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। বাউফল বিএনপিকে শক্তিশালী করতে এবং ঐক্যবদ্ধ রাখতে আমি সব সময় কাজ করে যাচ্ছি। জনগনের আস্থা ও সমর্থনই আমার শক্তি। আমি আশা করি, আমার সংগ্রামী জীবন ও ত্যাগের মূল্যায়ন করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে দলের জন্য বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ দিবেন।


You must be logged in to post a comment.