মেয়েদের ফুটবলে ইতিহাস
বাংলাদেশ এর পর অনেকবারই হয়তো এমন স্কোরলাইনে জিতবে, এর চেয়েও বড় ব্যবধানে হারাবে প্রতিপক্ষকে, কিন্তু কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে আজ নেপালের বিপক্ষে জয়ের এই স্কোরলাইনের মতো সোনায় বাঁধিয়ে রাখার মতো স্কোরলাইন হয়তো কদাচিৎই দেখা যাবে।
এ যে ইতিহাস গড়া স্কোরলাইন! বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্জনের আনন্দ এনে দেওয়া স্কোরলাইন। বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার গল্প জোরেশোরে জানান দিয়ে যাওয়া স্কোরলাইন।
এ যে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম সাফ জয়ের নিশ্চিত করে দেওয়া স্কোরলাইন!
কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে আজ ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা লিখেছেন ইতিহাস!
শুধু বাংলাদেশ কেন, মেয়েদের সাফের ইতিহাসেও কি অনন্য গল্প লেখা স্কোরলাইন নয়? এর আগে যে পাঁচবার মেয়েদের সাফ আয়োজিত হয়েছে, পাঁচবারই শিরোপা গেছে ভারতের ঘরে। ষষ্ঠবারে এসে নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল মেয়েদের সাফ। বাংলাদেশের সঙ্গী হলো ইতিহাস গড়ার গর্ব ।
বৃষ্টিভেজা মাঠ, প্রায় ১৬ হাজার দর্শকে ভর্তি দশরথ স্টেডিয়ামের ‘নেপাল’ ‘নেপাল’ গর্জন, এর আগে কখনো নেপালের বিপক্ষে জিততে না পারার ব্যর্থ অতীত…কোনো কিছুই বাংলাদেশের পথে বাধা হতে পারেনি।
বাধা হতে পারেনি টুর্নামেন্টে ৪ গোল করা সিরাত জাহান স্বপ্নার দশম মিনিটে চোট নিয়ে উঠে যাওয়াও। বৃষ্টিতে কাদা জমে যাওয়া মাঠের কারণেই হোক বা স্বাগতিক দলের বিপক্ষে স্বাগতিক দর্শকদের সামনে ফাইনালে খেলার চাপের কারণে…ফাইনালে আজ বাংলাদেশের মেয়েদের পায়ে টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোর ছন্দ অতটা দেখা যায়নি। কিন্তু সে নিয়ে এখন আর কে ভাবতে যায়!
সাবিনা-কৃষ্ণা-স্বপ্না-মারিয়া-সানজিদাদের সোনালি প্রজন্ম বাংলাদেশের ফুটবলে ইতিহাস গড়ার দিকে এক পা বাড়িয়েছে ম্যাচের ১৪ মিনিটে। দশ মিনিটে স্বপ্নার বদলি নামা শামসুন্নাহারের দারুণ গোলে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের। এরপর অবশ্য নেপাল ফিরে আসার চেষ্টা করেছে বেশ, ৩৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিকে নেপালের আনিতার দারুণ শট ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার রূপ্না, ফিরতি কর্নার থেকে বল গোললাইন থেকে ঠেকাতে হয়। কিন্তু তাতেও দমেনি বাংলাদেশ। ৪২ মিনিটে সাবিনার পাস ধরে দারুণ গোল কৃষ্ণার।
বিরতির পর নেপালের শট বারে লেগেছে, ২-৩ গজ দূর থেকে নেপালের রাশমি হেড করেও বল জালে রাখতে পারেননি। বাংলাদেশ গোলকিপার রূপ্না দারুণ সেভ করেছেন কয়েকবার। তবে ৭০ মিনিটে রক্ষণ আর গোলকিপারের ভুলেই গোল খেয়ে যায় বাংলাদেশ। গোলদাতা আনিতাকে বক্সে অনেক জায়গা ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ রক্ষণ, গোলকিপার রূপ্নাও দূরের পোস্টে অনেক জায়গা ফাঁকা রেখে কাছের পোস্টে দাঁড়িয়েছিলেন। আনিতা দূরের পোস্টেই শট নিয়ে বল জালে জড়ান।
দশরথ স্টেডিয়ামে গর্জনে তখন কান পাতা দায়। বাংলাদেশকে ঘিরে শঙ্কা, এই বুঝি ফিরে এল নেপাল! কিন্তু ছয় মিনিটেই আবার শঙ্কা উধাও। আবার গোল বাংলাদেশের। আবার গোল কৃষ্ণার পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে দারুণ থ্রু গেল, সেটি ধরে চোখে লেগে থাকার মতো ফিনিশিং কৃষ্ণার। ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল, টুর্নামেন্টে চতুর্থ।
ফাইনালে এর আগেও খেলেছে বাংলাদেশ, তবে ২০১৬ মেয়েদের সাফের সে ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছে। এবার গল্পটা স্বপ্নপূরণের।

You must be logged in to post a comment.