leadnewsসারা দেশ

বাউফলে হত্যা মামলার আসামী প্রথম আলোর সাংবাদিক

তোফাজ্জেল হোসেন,বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হত্যা মামলার আসামী হয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর বাউফল প্রতিনিধি এবিএম মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার বাউফল থানায় ওই মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে রোববার দুপুরে বাউফল থানার পূর্ব পাশে তোরণ নির্মানকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ হলো স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ সমর্থিত এবং আরেক পক্ষ হলো বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল। এ সময় সাংবাদিক মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সংঘর্ষে আসম ফিরোজ(এমপি) সমর্থিত তাপস দাস(৩৪) নামে এক যুববলীগ কর্মী আহত হয়। পরে ওই দিন রাত ৮ টার দিকে বরিশাল শেরে-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই পংকজ চন্দ্র দাস ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে বাউফল থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রথম আলোর বাউফল প্রতিনিধি এবিএম মিজানুর রহমানকে ২০ নম্বর আসামী করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক মিজানকে শুধু তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি। অথচ ষড়যন্তমূলকভাবে মিথ্যে অভিযোগে তাকে হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে। যা খুবই দঃখজনক ঘটনা। এর আগেও মিজানের বিরুদ্ধে ধর্ষন ও চাঁদাবাজিসহ কয়েকটি মামলা করা হয়েছিল । কিন্তু ওই সব মামলায় আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। এ রকম ঘটনা ঘটতে থাকলে সাংবাদিকরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে কীভাবে ?
এ ব্যাপারে সাংবাদিক মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের সময় আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। যা স্থানীয় এবং বিভিন্ন মিডিয়া কর্মীদের কাছে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করা রয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাউফল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান বাচ্চসহ স্থানীয় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিককে বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানলাম এ মামলায় একজন সাংবাদিককে আসামী করা হয়েছে। তবে কোন নিরাপদ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না।