ডেমরায় শীতলক্ষ্যায় ডুবে তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের দুই ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু
মাহবুব মনি: ডেমরায় বুধবার শীতলক্ষ্যা নদীতে একই কলেজেরে ৬ বন্ধু মিলে গোসল করতে নেমে দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়ের বাগের জাপানী বাজার এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো.তানজিব (১৯) ও ডেমরার বামৈল বালুর মাঠ সংলগ্ন হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. মিজান (২০)। এ ঘটনায় নাদিম (১৯) নামে আরেক সহপাঠীকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ডেমরার স্থানীয় একটি হাসপালে নেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা সবাই রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে সুলতানা কামাল সেতুর ডেমরার অংশের প্রথম পিলারের নিরাপত্তা বেষ্টনি এলাকায় গোসল করছিলেন কলেজ ছাত্ররা। এ সময় নদিতে লাফনোর ছবিও তুলছিলেন তারা। খেলার ছলে লাফ দিয়ে পানিতে পড়ার এক পর্যায়ে তানজিব ও মিজান নদির ¯্রােতে নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে প্রায় ২৫ হাত দূরে চলে যায়। এ সময় তাদের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে নাদিম (১৯) নামের আরেক বন্ধু এগিয়ে গেলে তার ৩ জনই পানিতে ডুবে যায়। এদিকে সেতুর পাশে নদিতে মাছ ধরা অবস্থায় আয়নাল নামের এক জেলে তার বাবাকে নিয়ে নাদিমকে জীবিত উদ্ধার করকে সক্ষম হন। কিন্তু তানজিব ও মিজান নদিগর্ভে তলিয়ে যায়। তবে তারা কেউ সাতার জানতোনা।
ডেমরা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে ডেমরা ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি টিমসহ ১৭ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. বজলুর রশিদের নেতৃত্বে প্রায় ৩ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, নদিতে ড্রেজার বসানো থাকায় পাইপের নিচে জোড়া বাঁশের খুটিতে একই জায়গায় ২ জনের লাশ আটকে ছিল বলে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারের পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি এসএম কাওসার বলেন, মৃত ২ ছাত্রের অভিভাবকদের কোন অভিযোগ না থাকায় এ বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
