leadnewsডেমরা

ডেমরায় গ্যাস পাইপের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ॥ দগ্ধ ৮

ডেমরা নিউজ :ডেমরায় গ্যাস পাইপের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন একই পরিবারের ৭ জনসহ ৮ জন। ৩ দিন ধরেই বাসার ভেতর গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছিলো অটো রিক্সাচালক আলমগীরের পরিবার। ৩দিনেই বেশ কয়েকবার বলার পরও লিকেজ গ্যাস পাইপ মেরামতের কোন ব্যবস্থা করেননি বাড়ির মালিক। বরং কিছুদিন পরেই ঠিক করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন বাসার মালিক আব্দুস সাত্তার। তবে গতরাতেই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হন আলমগীর হোসেনসহ তার স্ত্রী, ৩ ছেলে, ভাতিজা ও তার স্ত্রী এবং পাশের রুমের কেয়ারটেকার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত কোরবানির ঈদের আগের দিন তারা ডেমরা ডগাইর এলাকার আল-আমিন রোড মসজিদের পাশে আব্দুস সাত্তারের ওই বাসার ২য় তলায় ভাড়ায় ওঠেন। ৫ রুমের ওই বাসায় এক রুমে স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে থাকতেন তিনি। পাশের রুমে থাকতো বড় দুই ছেলে। আরেক রুমে তার ভাতিজা স্ত্রীসহ থাকতেন। পাশেই একটি ঘরে থাকতেন কেয়ারটেকার আরিফ। তার পাশের রুমে আরেকটি পরিবার থাকে।
সূত্রে আরও জানা যায়, গতরাত ১১টার দিকে কাজ শেষে বাসায় আসেন আলমগীর। এরপর বিদ্যুতের ফ্যান চালু দিলে একটি গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন তিনি স্ত্রী ফেরদৌসির কাছে কিসের গন্ধ জানতে চাইলে তার স্ত্রী বলেন, ফ্যানের কয়েল কেটে গন্ধ বের হচ্ছে মনে হয়। এরপর তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক সোয়া ৩ টার দিকে হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ঘুম ভাঙ্গে সবার। সঙ্গে সঙ্গে একটি আগুনের কুন্ডুলি তাদেরকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এরপরই সবার হাত পায়ে জ্বালা শুরু হয়ে যায়। ২য় তলার কেচিগেটের তালা ভেঙ্গে তারা সবাই নিচে নেমে আসেন। বিস্ফোরণে ২য় তলার এক পাশের দেয়াল ধসে গেছে বলে জানান আলমগীর হোসেন।
এদিকে আলমগীরের স্ত্রী দগ্ধ ফেরদৌসি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, গত ৩দিন ধরেই বাসার ভেতর সব সময় গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেতো। এরপর কয়েকবার বাসার মালিক আব্দুস সাত্তারকে বিষয়টি জানানো হয়। সেসময় মালিক তাদের জানান, বাসার ৩য় তলায় যখন গ্যাস লাইন দেয়া হবে তখন তাদের বাসার লাইনও মেরামত করে দেয়া হবে। দগ্ধ ফেরদৌসি বলেন, তখন যদি লিকেজ গ্যাস পাইপ ঠিক করে দিতেন, হাতলে আজ আমাদের এই অবস্থা হতোনা।
ঢামেক বার্ণ ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডাঃ পার্থ শংকর পাল জানান, আলমগীরের শরীরের ৮ শতাংশ, ফেরদৌসির ৬, ইমনের ৯, শিপনের ২০, তাসিনের ৪, তোফায়েলের ৯, রতœার ৪৬ ও আরিফের শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু তাসিন বাদে সবাইকে ভর্তি রাখা হয়েছে। এদের ৭জনেরই শ্বাসনালী দগ্ধ হয়েছে। রতœাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ও বাকিদেরকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে।