কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রীর ‘নির্বাচনী প্রচার’
কক্সবাজার সফরে এসে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, স্থাপন করলেন আরও কিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর। এরপর ভোট চাইলেন নৌকায়। বললেন, বর্তমান সরকার দেশে যে উন্নয়ন করেছে, সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিতে হবে। দেশবাসী এই কাজটি করবে বলেও বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার বিকালে কক্সবাজারে জেলা আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্যের একেবারে শেষ দিকে এসে আগামী নির্বাচনের জন্য নৌকায় ভোট চান শেখ হাসিনা।
নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকা জনগণের মার্কা। নৌকায় ভোট দিয়েই আপনারা ভোটাধিকার পেয়েছেন। এখানে ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন। ভাষার অধিকার পেয়েছেন। কাজেই আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থীকে আপনারা জয়যুক্ত করবেন। দেশে উন্নয়নের গতিধারা অব্যহত করবেন। আমরা সেটাই আপনাদের কাছে আশা রাখি।’
দীর্ঘ বক্তব্যে কক্সবাজারের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা, পরিকল্পনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা উদ্যোগের বর্ণনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তুলে ধরেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞ, দেশে সামরিক শাসন জারি এবং এরপর বন্দুকের নলের মুখে জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখলের বিষয়টি। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় থেকে কক্সবাজারবাসীকে রক্ষা করতে সে সময়ের বিএনপি সরকারের উদ্যোগহীনতারও তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশের মানুষ আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েই সবকিছু পেয়েছে। তিনি বলেনম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বয়স্ক ভাতা-বিধবা ভাতা দেয়া শুরু করে। এখন প্রায় ৫৫ লক্ষ মানুষ এসব ভাতার পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের ভাতাও পায়। সরকার ছেলেমেয়দের লেখাপড়া করার ব্যবস্থা করে দিচ্চে, বিনা পয়সায় আমরা বই দিচ্ছে। সবার মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের অর্থনীতি আজ মজবুত।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, এখানে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই জানিয়ে এই পথ থেকে দূরে থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের হাত থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে রক্ষা করতে হবে।…আমরা কওমি মাদ্রাসায় সনদ দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আরবি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। কারণ কওমি মাদ্রাসায় এত শিক্ষার্থীদের কখনোই ফেলে দেয়া যায় না। তারাও আমাদের এই দেশের সন্তান। তাদেরকেও আমাদের সুযোগ করে দিতে হবে।’
বিদ্যুত উৎপাদন করে সরকার ৮০ লাখ প্রত্যন্ত মানুষের বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যেই আমরা প্রত্যেক ঘরে ঘরেই আলো জ্বালাবো। যেখানে বিদ্যুৎ নাই সেখানে আমরা সোলারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছি। কোনো অন্ধকার থাকবে না।
দেশের অর্থনীতি আজ শক্তিশালী দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই কারণেই কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা যেন আপনাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন।’
ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘লেখাপড়া সব থেকে বড় সম্পদ। এর থেকে বড় সম্পদ কিন্তু আর কিছু নয়।’ তিনি বলেন, কাজেই ‘লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এই দেশে আগামী দিনের কর্ণধার হতে হবে।’
দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বলতে কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘আমি আর আমার বোন রেহানা। আমাদের পাঁচটা ছেলে-মেয়ে। আমরা তাদের একটা কথাই বলেছি। তোমাদের আমরা অন্য কোনো সম্পদ দিতে পারব না। একটাই সম্পদ দিতে পারব। তোমাদের লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’

You must be logged in to post a comment.