leadnewsসারা দেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের পরিচয়ে ধর্ষণের অভিযোগ

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পরিচয়ে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার (৪ মে) রাতে মহানগীরর সিদ্ধিরগঞ্জের ২নং ওয়ার্ডের মিজমিজি আব্দুল আলী পুল এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।

রোববার (৬ মে) বিকেলে ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধু সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মৌখিক অভিযোগ দিলে দারোগা পরিচয়ে লোকটিকে গৃহবধূর বাসায় নেয়ার অভিযোগে রনি (২৫) নামে এক যবককে আটক করে। সে আদমজী বিহারী কলোনী এলাকার বিল্লালের ছেলে। কিন্তু পুলিশ পরিচয় দিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণকারী রফিকুল ইসলাম পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
ধর্ষিতা ওই গৃহবধু জানান, এক সময়ে সে আদমজী ইপিজেডে চাকরী করার সুবাদে রনির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে রনি প্রায়ই তার বাসায় যাতায়াত করতো। পরে গত শুক্রবার রাতে রনি রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে নিয়ে ওই গৃহবধুর বাসায় যায়। এসময় রফিকুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে রনি পুলিশের এএসআই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। কথাবার্তার একসময় ওই পুলিশ পরিচয়দানকারী রফিক গৃহবধুর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবী করে। গৃহবধু কোন কারণ ছাড়াই টাকা কেনো দিবো জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। পরে পুলিশ পরিচয়দানকারী রফিক ওই গৃহবধুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে ওই গৃহবধু বিষয়টি আর কাউকে জানায় নাই।
এদিকে রোববার দুপুরে পুলিশ পরিচয়দানকারী রফিকুল ইসলাম পুনরায় তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ঐ ধর্ষিত গৃহবধুর বাসায় গিয়ে আবারও টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে অকথ্য ভাষায় তাকে গালাগালি করে রফিকুল তার দুই সহযোগীর জন্য দুই হাজার টাকা চায়। তার দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় হুমকি ধমকি দিয়ে চলে যায়। দুপুরেই ওই গৃহবধু থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ দেয়। পরে পুলিশ রোববার রাতেই আদমজী নগর নতুন বাজার আজমেরী হোটেলের সামনে থেকে রনিকে আটক করে।
এ ঘটনায় ধর্ষিতা নিজে বাদি হয়ে রনি ও রফিকুল ইসলামকে আসামি করে সোমবার (৭ মে) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২০। ধর্ষিতা ওই গৃহবধুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার জানায়, এনসিসির ২নং ওয়ার্ডের মিজমিজিতে গৃহবধু ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা রনি নামে একজনকে আটক করেছি। আরেক অভিযুক্ত রফিককেও আমরা খুঁজছি। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো। রফিক এএসআই হিসেবে কোন থানায় কর্মরত রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রফিকের বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি সে আসলে পুলিশে চাকরি করে না। ভূয়া পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই দিন ওই গৃহধূর বাসায় যায় এবং তার কাছে টাকা দাবী করে। গৃহবধু টাকা না দেওয়ায় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানায় ওই গৃহবধু।