রূপগঞ্জে আড়াই মাসের শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যা করার অভিযোগ
জাহাঙ্গীর আলম হানিফ, রূপগঞ্জ ঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নরাবো এলাকায় দাবিকৃত যৌতুকের টানা না পেয়ে ও পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে ঝগড়া-ঝাটিকে কেন্দ্র করে পিতার বিরুদ্ধে জুনায়েত হোসেন নামে এক আড়াই মাস বয়সের এক শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার মধ্যে রাতে কাঞ্চন পৌরসভার নরাবো এলাকায়। শিশু জুনায়েত হোসেন নরাবো এলাকার আবু বক্করের ছেলে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুর পিতা আবু বক্কর ও দাদী মনোয়ারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানান, নরাবো এলাকার একটি পুকুরে জুনায়েত হোসেন নামে এক শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। শিশু জুনায়েতের গলায় জখম দেখা গেছে। তবে নিহত শিশুর মা মৌসুমী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে ও পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদকে কেন্দ্র করে তার স্বামী আবু বক্কর ও শাশুরী মনোয়ারা বেগম মিলে শিশু সন্তান জুনায়েতকে শ^াসরোধের পর পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত জুনায়েতের মা মৌসুমী বেগম জানান, তিনি নরাবো এলাকার বাউল শিল্পী আর হকের মেয়ে। একই এলাকার মৃত ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে আবু বক্করের সাথে তার প্রেম ছিল। উভয়ের প্রেমের সূত্রধরেই গত ২ বছর আগে আবু বক্করের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে ভালই চলছিল তার সংসার। কিন্তু এতে বাধঁ সাধে তার শাশুড়ী। শাশুড়ী মনোয়ারা বেগম তাকে পছন্দ করতেন না। তাই বিয়ের কিছু দিন গড়াতে না গড়াতেই স্বামী আবু বক্কর নানা অজুহাতে মৌসুমী বেগমকে মারধর করতো। এ নিয়ে বেশ কয়েকবারই অভিমান করে তাকে বাপের বাড়ি চলে আসতে হয়েছিলো। বিয়ের দুই বছরের মাথায় আবু. বক্কর ও মৌসুমীর ঘরে জুনায়েত নামের এক ছেলের জন্ম হয়। জুনায়েতের জন্মের পর থেকেই শাশুড়ী মনোয়ারা বেগম ও স্বামী আবু বক্কর যৌতুকের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতো মৌসুমীকে। যৌতুকের টাকা এনে দিতে না পারলেই শারিরিক নির্যাতন করা হতো । এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়রা বেশ কয়েক বার সামাজিক ভাবে ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে দেয়। ১৩ই জুন মঙ্গলবার রাতেও আবু বক্করসহ শশুর বাড়ির লোকজন মৌসুমীকে নির্যাতন করে।
রাত ৯ টার দিকে শিশু সন্তান জুনায়েত ও মা মৌসুমী ঘরে শুয়ে ছিলেন, তার পাশের রুমেই জুনায়েতের বাবা আবু বক্কর ও দাদী মনোয়ারা বেগমও গুমিয়ে ছিলেন। মধ্যে রাতে মৌসুমী তার বিছানায় শিশু জুনায়েতকে না পেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে জুনায়েতকে খুজতে থাকে। খোজাখুজির এক সময় শিশু জুনায়েতকে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসতে দেখা যায় বলে পার্শবর্তী এক প্রতিবেশী খবর দেন।
মৌসুমী বেগম আরো জানান, দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ঘটাতে তার স্বামী-শাশুরীসহ শশুর বাড়ির লোকজন শিশু জুনায়েতকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেয়। নয়তো জুনায়েত হাটতে শিখে নি সে ডোবায় যাবে কি করে ?
অপর দিকে নিহত জুনায়েতের বাবা আবু বক্কর বলেন, জুনায়েত আমার ছেলে। অন্যান্য দিনের মতই রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তার পাশের ঘরেই জুনায়েদ ও তার মা মৌসুমী বেগম ঘুমিয়ে ছিল। একসময় আমার স্ত্রীর চিৎকার শুনে আমি ঘুম থেকে উঠি। আর ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির পাশের পুকুর থেকে আমার ছেলে জুনায়েতের মরদেহ তোলা হচ্ছে। এঘটনার আমি কিছুই জানি না।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা নেয়া হবে। হয়তো আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে।

You must be logged in to post a comment.