অর্থনীতি

পাটপণ্যের বাজার প্রসারে আরো বেশি প্রদর্শনী করতে হবে: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানি বাজার প্রসারে দেশে-বিদেশে বেশি বেশি প্রদর্শনীর কথা বলেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এতে দেশে পাটপণ্যের চাহিদা যেমন বাড়বে তেমনি এ খাতের উদ্যোক্তাদের বিক্রিও বাড়বে। দেশের বাইরেও পাটপণ্য রপ্তানি করতে উৎসাহী হবে বলে জানান মন্ত্রী ।

রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে করিম চেম্বারে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) পাঁচ দিনের বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) মাধ্যমে পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উদ্ভাবন, ব্যবহার সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ করেছে। সে লক্ষ্যে উদ্যোক্তারা ২৮২ প্রকার দৃষ্টিনন্দন পাটপণ্য উৎপাদন করছেন-যার অধিকাংশই বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

বহুমুখী পাটজাত পণ্যকে জনপ্রিয় করতে প্রচার প্রচারণাসহ বিদেশে বিভিন্ন মেলার আয়োজন করার কাজ চলমান রয়েছে। এসব মেলায় পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী, বিপণনকারী, ব্যবহারকারী এবং বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে অধিক যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক হবে। এক্সপো-২০২০, দুবাইসহ সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য মেলায় বহুমুখী পাটপণ্যের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জেডিপিসির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘যত পারেন পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করেন। এতে দেশে পাটপণ্যের চাহিদা যেমন বাড়বে তেমনি এ খাতের উদ্যোক্তাদের বিক্রিও বাড়বে। তারা দেশের বাইরেও পাটপণ্য রপ্তানি করতে উৎসাহী হবে। এ বছর মেলা কয়টি করবেন আমাদের জানাবেন। মেলা হলে উদ্যোক্তারা লাভবান হবে। অনেক উদ্যোক্তাই দেশের বাইরে যেতে পারে না। মেলা হলে তারা লাভবান হবে।’

তিনি বলেন, পাট খাতে সরকারের নানামুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতটি অসামান্য অবদান রাখছে। যদিও কালের পরিক্রমায় কৃত্রিম তন্তু (পলিথিন)-এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান টেকসই উন্নয়নের যুগে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটপণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের চলমান পৃষ্ঠপোষকতার কারণে পাট খাতের হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার এবং অধিক সমৃদ্ধিশালী করা সক্ষম হয়েছে।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, আমি ব্যবসায়িক দিক থেকে চিন্তা করেছি কিভাবে পাট শিল্পকে লাভজনক করা তোলা যায়। সাধারণভাবে অন্য পণ্যের ক্ষেত্রে ১ টন পণ্যে যে পরিমাণ লাভ করা যাবে, জেডিপিসির ওই পরিমাণ পণ্যে আরো বেশি লাভ করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আক্ষেপ করে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, আমি যখন মন্ত্রী হলাম, এই ভবনটি এবং পেছনের ভবনটি নিয়ে মেলা করতে চাইলাম। বললাম, প্রতি মাসে মেলা হবে। কিন্তু, তৎকালীন বিজেএমসির চেয়ারম্যান এত বেশি ভাড়া ধরলেন যে উদ্যোক্তারা আসতে পারলেন না। তার কর্তৃত্বসুলভ আচরণের জন্য তখন এই মেলা করা সম্ভব হয়নি। তিনি তখন বিজেএমসি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, যা ছিল লোকসানি প্রতিষ্ঠান। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডাকলেন।

তিনি বলেন, বছরে ১ হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টরগুলো লাভ করছে, আমরা কেন পারছি না। তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা লীজ দিয়ে বন্ধ হতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো চালাব।

মন্ত্রী বলেন, ইন্ডিয়ার তুলনায় আমরা মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবসা করি। সেখানে সরকারি জুটমিল নাই। অথচ, আমরা লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলো চালিয়ে প্রাইভেট সেক্টরগুলোকে ওই সময়ে সাহায্য করতে পারিনি। এখন অনেকগুলো মিল চালু হয়েছে। যেহেতু প্রাইভেট সেক্টরের উদ্যোগে চালু হচ্ছে, তারা দেখবেন ফরেন কারেন্সি অর্জন করবে৷ কারণ তাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো এত অবলিগেশন নেই।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, আমাদের বিজেএমসি আছে, তাঁত বোর্ড, বস্ত্র অধিদপ্তর আছে। সবাইকে এই সেক্টরে অবদান রাখতে হবে। কারণ, এই শিল্প এই সেক্টরগুলোর সঙ্গে জড়িত।

এতে করে বেতন না পাওয়াজনিত হ্যাঁসেল থেকেও আমরা মুক্তি পাচ্ছি। নরমাল জুট প্রোডাক্ট নিয়ে আমরা খুব বেশি ভালো করতে পারব না, কাজেই বিশেষায়িত এইসব পণ্য নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে আমরা যাতে পাটপণ্য রপ্তানিতে সহায়তা করতে পারি। যারা দাঁড়িয়ে গেছে, তারা তো দাঁড়িয়েছেই। বাকিদের যাতে আমরা দাঁড় করাতে পারি, এটাই চ্যালেঞ্জ।

পরে মন্ত্রী পাঁচ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং সবকটি স্টল ঘুরে দেখেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও জেডিপিসির নির্বাহী পরিচালক রেখা রানী বালোসহ আগত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা।

করিম চেম্বারে চলমান পাঁচদিনের এই প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে।

এবার মেলায় ৩৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তারা বহুমুখী পাটপণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। বহুমুখী পাটপণ্যের উদ্যোক্তাগণ ২৮২ প্রকার দৃষ্টিনন্দন পাটপণ্য উৎপাদন করছেন। প্রদর্শনীতে পাটের প্রায় সব পণ্য রয়েছে।