ডেমরায় সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, দূষণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
সালে আহমেদ: রাজধানী ডেমরার ৬৬ নং ওয়ার্ডের বামৈল ওয়াপদা সড়কের পাশে গড়ে ওঠা একটি ময়লার ভাগাড় থেকে প্রতিনিয়ত ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে দূষণের শিকার হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দাসহ রাস্তায় চলাচলকারীরা। নাক-মুখ চেপে চলাফেরা করতে হচ্ছে এই রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী,শিক্ষার্থী ও পরিবহনের চালকদের। ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬৬ নং ওয়ার্ডের বামৈল এলাকায় সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত এই ময়লার ভাগাড় থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। প্রতিদিনে এই সড়ক চলাচলকারী স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত দূষণের শিকার হচ্ছেন।সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি চলাচলে ও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার প্রতিকার পাচ্ছে না এই জনপদের বাসিন্দারা। ময়লা নিষ্কাশন কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বাসাবাড়িতে সপ্তাহে তিন কি চার দিন ময়লা নিতে আসে।বহুতল ভবনের ময়লা নিতে আবার অনেক সময় নানান অজুহাত ও তালবাহানা এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী।বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে ও সমাধান না পাওয়ায় হতাশ নাগরিকগন।তাদের দাবি ময়লার টেন্ডার নিয়ে উচ্চ মূল্যে দরকষাকষি করে ময়লার বিল বৃদ্ধি করে ও ঠিকমতো ময়লা নেয়া হচ্ছে না। এই সড়কে চলাচলকারী পূর্ব হাজীনগর এলাকার বাসিন্দা মোঃ সাগর বলেন,সড়কের পাশে আর নয় ময়লা ফেলা কারন সড়ক দখল করে ময়লার ভাগাড় তৈরির ফলে রাস্তায় যাতায়াতের সমস্যা, যানজটের সৃষ্টি হয়।অনেক সময় মোটরসাইকেল পিছলে দূর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।
বামৈল এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী শেখ আলামিন বলেন,সত্যিকার অর্থেই অনেক কষ্টদায়ক যারা এখান দিয়ে চলাচল করে তারা বুঝতে পার।ময়লার ভাগাড় শুধু এখানে নয় বিশেষ করে ডেমরার গলাকাটা, সারুলিয়া, চিটাগং রোড পয়েন্টসহ বিভিন্ন খালি জায়গায় এভাবেই রাস্তার উপর ময়লা পরে থাকে।যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার কারনে বিভিন্ন মশা, মাছির উপদ্রব বেড়ে যায় আর সেইসাথে, রোগবালাই ও বৃদ্ধি পায়।অতি দ্রুত এ ধরনের সমস্যা থেকে পরিত্রান চাই।
আদমজী কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান অনন্ত বলেন, যতটুকু জানি ময়লার ভাগাড় একটি নির্দিষ্ট স্থান ও লোকালয় থেকে দূরত্বে স্থাপন করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে।অতি সত্বর এখান থেকে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক জানান,জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় দেয়া কথা ঠিক মতো রাখতে পারছে না।মানুষকে কষ্ট দিয়ে অর্থ উপার্জন করা প্রকৃত জনপ্রতিনিধির কাজের মধ্যে পড়ে না।ময়লার ফেলার নিদিষ্ট ডিপো দিয়ে দিলে এই সমস্যা তৈরি করা।সড়কের পাশে ময়লার কারনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকতে হয় নগরবাসীকে।
এ বিষয়ে উক্ত সড়কে চলাচলকারী কলেজ শিক্ষার্থীর বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সবসময় এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভাগাড় করে রেখেছে। প্রতিনিয়ত এখান থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এই কারণে আমরা যখন এই ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই তখন আমাদের বমি আসে। নাক চেপে রাস্তা পার হই।ময়লার কারনে রাস্তা সরু হয়ে গেছে।রাস্তা পারাপারে এতে দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৬৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিন সাউদ বলেন,৬৬ নং ওয়ার্ডে ময়লার টেন্ডার স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পেয়েছে যতটুকু জানি।বামৈলে সড়কের পাশে ময়লার বিষয়ে তিনি বলেন,কয়েকদিন আগে যেখানে ময়লা ফেলানো হচ্ছে সেখানকার কলকারখানার কর্তৃপক্ষ এসেছে ময়লার বিষয়ে তবে এ বিষয়ে যারা ময়লার দায়িত্বে রয়েছে তাদের সুরাহার কথা বললে ও তারা কোনো কর্নপাত করে নি।এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে ময়লার বিষয়ে অন্য জনের বদনাম নিজের কাঁধে আসছে।আমি ও চাই উক্ত স্থান ময়লা ভাগাড় সরিয়ে খোলামেলা ও জনবসতি নেই এমন স্থানে ময়লার রাখার ব্যবস্থা হোক।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৬৪,৬৫ ও ৬৬ নং ওয়সর্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নিলুফা ইয়াসমিন লাকীর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, সিটি করপোরেশন বর্জ্য নিষ্কাশনের দায়িত্ব যাদের ভারী লাইসেন্স নেই তাদের কে বহিষ্কার করা হয়েছে।নতুন কিছু ড্রাইভার নিয়োগ করার পর অতিশ্রীঘই ময়লার অপসারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

You must be logged in to post a comment.