leadnewsরাজনীতি

খালেদার রায়ে আ’লীগে উল্লাস-মিষ্টি বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ে আনন্দ মিছিল-মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাস প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তারা জানিয়েছেন, আমরা আশা করেছিলাম তার (খালেদা) ১৪ বছরের জেল হবে। তিনি এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ রায়ে প্রমাণিত হলো পাপ বাপকেও ছাড়ে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীজুড়ে উল্লাস-মিছিল এবং মিষ্টি বিরতণ করেছেন দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এদিকে নাশকতা প্রতিরোধে তৎপর ছিল ট্রাফিক ও ডেমরা থানা পুলিশ। এলাকাবাসী ও পথযাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে দিনভর এলাকায় তাদের বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বৃহস্পতিবার রায় শোনার সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও ধানমন্ডী কার্যালয়ের সামনে থাকা নেতাকর্মীরা উচ্চস্বরে উল্লাস করতে থাকে। যুব মহিলা লীগের উদ্যোগেও বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মিছিল বের করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দেয়-এই মুহূর্তে খবর এলো খালেদা জিয়ার জেল হলো, খালেদা জিয়ার দুই গুণ দুর্নীতি আর মানুষ খুন। এছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেয়। এছাড়া এ রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাজধানীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী, রায়েরবাগ বিশ্বরোড, সায়েদাবাদ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউতেও উল্লাসে ফেটে পড়েন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে রায়ে সন্তোষ বা অসন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ড. হাছান মাহমুদ। খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সন্তুষ্ট অথবা অন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এ রায় একজন দুর্নীতিবাজ ও আদালতের বিষয়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো দেশে বিচারব্যবস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। আইন সবার জন্য সমান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এই রায় আওয়ামী লীগ বা বিএনপি’র মধ্যকার কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। এটা আদালত ও দুর্নীতিবাজের মধ্যকার বিচারের বিষয়। ফলে এখানে আওয়ামী লীগের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির কিছু নেই। তিনি আরো বলেন, এই রায়কে ঘিরে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সারাদেশে একটি ভয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। তারা কিছু কিছু জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টাও করেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা নাশকতা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলে, এই রায়ের দিন খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর আদালতে যাওয়ার সময় তার দলের নেতাকর্মীরা নাশকতার যে চেষ্টা করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চড়াও হয়ে নাশকতা করার যে চেষ্টা করা হয়, তাতে প্রমাণ হয়, বিএনপি এই বিচারকে বাধগ্রস্ত করার জন্য এবং রায়ের প্রক্রিয়াকে ভ-ুল করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতার কারণে বিএনপি’র নেতকর্মীরা তাদের ষড়যন্ত্র সফল করতে পারেনি। এ সময় সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর সদস্য ড.আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, মহিমুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
এদিকে দিনভর খালেদার রায়কে কেন্দ্র করে ডেমরা-যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজধানীর প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয়। রায়ের পর পরই ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি পুত্র আলহাজ্ব মশিউর রহমান মোল্লা সজলের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কৌশিক আহমেদ জসিম, ডেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবু, ডেমরা থানা কৃষকলীগের যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় ঢাকা-৫ আসনের নেতাকর্মীদের মাঝে ২০০ (৫মন) কেজি মিষ্টি বিতরণ করেন মশিউর রহমান মোল্লা সজল। এর আগে গত বুধবার বিকেল থেকে ঢাকা-৫ আসনের ৫৫টি স্পটে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পাহারা বসায় সজল। অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-সায়দাবাদ এলাকায় সর্তক অবস্থায় থেকে পাহারা দেয়া হয়। এতে নেতৃত্ব দেন যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না, ৪৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম অনু, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম ফারুকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। রায় ঘোষনার পর পরই কয়েক হাজার নেতাকর্মীদের নিয়ে যাত্রাবাড়িতে মিছিল বের করা হয়। এছাড়া ও ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদের নেতৃত্বে সহস্্রাধিক নেতৃবৃন্দ এলাকার ৯টি স্পটে পাহারা দেয়।
এদিকে ডেমরায় নাশকতা প্রতিরোধে তৎপর ছিল ট্রাফিক ও ডেমরা থানা পুলিশ। এলাকাবাসী ও পথযাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে দিনভর এলাকায় তাদের বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
নিরাপত্তার বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি এসএম কাওসার বলেন, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগনের সতস্ফূর্ত সমর্থন ছিল বলে থানা পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে। অপরদিকে রামপুরা ট্রাফিক জোনের টিআই বিপ্লব ভৌমিক বলেন, সড়কে যেকোন ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে ট্রাফিক বিভাগ সতর্ক অবস্থানে ছিল। তাছাড়া ট্রাফিক ও থানা পুলিশের সমন্বয় ও কৌশলী তৎপরতায় কোথায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, আমরা আশা করেছিলাম খালেদা জিয়ার ১৪ বছরের জেল হবে। তিনি এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ রায়ে প্রমাণিত হলো পাপ বাপকেও ছাড়ে না।
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে সাজা দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। এতে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।