leadnewsসারা দেশ

কর্মহীন অসহায় ভাড়ায় চালিত এক মটোরসাইকেল চালকের আর্তনাত

তোফাজ্জেল হোসেন,বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: আজ বুধবার বেলা তখন সাড়ে ১১ টা। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পাবলিক মাঠের বট তলায় হঠাৎ দেখা হয় ভাড়ায় মটোরসাইকেল চালিত এক চালকের সঙ্গে। চোখে মুখে তাঁর অসহায়ত্বের ছাপ। এ প্রতিনিধিকে দেখেই বলে ওঠেন সাংবাদিক ভাই আমাদেরকে দেখার কেউ নেই । আপনি একটু আমাদের কথা উপজেলা নির্বাহি অফিসারের কাছে বলুন। আমারা যেন খাদ্য সহায়তা পাই। কত আর কষ্ট করব স্ত্রী,সন্তান নিয়ে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এখন এখন আর কিছু করার নেই। এভাবেই কান্নজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বললেন ওই মটোরসাইকেল চাালক। নাম তার বাবুল বেপারী(২২)। বাউফল পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে তাঁর বাসা। দারিদ্রের কষাঘাতে ছোটবেলা খেকেই লেখাপড়া করার সৌভাগ্য হয়নি তার। তাই বেকার না থেকে সংসারের খরচ চালাতে বেছে নিতে হয়েছে ভাড়ায় মটোরসাইকেল চালানোর মত ঝুকিপূর্ন পেশা। প্রতিদিনের আয় দিয়ে খেয়েপরে এক রকম কেটে যাচ্ছিল তাঁর দিন। কিন্তু এখন কষ্টে দিন কাটছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের। প্রানঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রামন ঠেকাতে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারন ছুটি ও লকডাউন ঘোষনা করায় প্রায় ১ মাস কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বাবুল। অন্য কোন পেশায় যোগ দিবেন সে সক্ষমতাও নেই তার। তাই বসে বসে কর্মহীন দিন অতিবাহিত করছেন তিনি। আর সংসারের খরচ জোটানোর জন্য তাঁর কপালে পড়েছে চিন্তার ভাজ । বাবুলের মত একই রকম দিন কাটাচ্ছেন পৌরসদরের বাসিন্ধা সেলিম, লিটন ও বশারসহ বাউফলের প্রায় ২শতাধিক মটোর সাইকেল চালক। মটোরসাইকেল চালক বাবুল বলেন, আমাদের সরকার কর্মহীনদের জন্য প্রচুর ত্রান ও টাকা পাঠাচ্ছেন। অথচ আমরা কর্মহীন হয়েও এ গুলো পাচ্ছি না। প্রায় ১ মাসের মত সময় কর্মহীন থাকায় ধারদেনা করে কিছু দিন চরলেও এখন আর চলতে পারছি না। তাই আমাদেরকে ও খাদ্য সহায়তার তালিকায় আর্šÍভুক্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই।
বাউফল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, যারা কর্মহীন অসহায় তারা সবাই খাদ্য সহায়তা পাবে, তবে পর্যায়ক্রমে। আর ভাড়ায় মটোরসাইকেল চালিত চালকেরা স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অথবা মেম্বার কিংবা ওয়ার্ড কাউন্সিলদের মাধ্যমে যে তালিকা তৈরী করা হচ্ছে সেই তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হতে হবে। আলাদাভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়ার কোন সুযোগ নেই।