leadnewsঅপরাধ

এনু-রুপনের আরেক বাড়িতে সিন্দুক আর ট্রাংকে বিপুল টাকা, গয়না!

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার গেণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কয়েক কোটি টাকা ভর্তি পাঁচটি সিন্ধুক এবং পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর ও বিপুল পরিমাণ গয়না উদ্ধার করেছে র‌্যাব। সোমবার মধ্যরাতের পর এ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। নেতৃত্বে ছিলেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

পুরান ঢাকার ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত র‌্যাব–৩–এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়জুল ইসালাম জানিয়েছেন, ‘ক্যাসিনো–কাণ্ডে জড়িত দুই ভাইয়ের ঢাকায় বহু ফ্ল্যাট–বাড়ি রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁরা ২৪টি বাড়ির খোঁজ পেয়েছেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তাঁরা পুরান ঢাকার এ বাড়ির খোঁজ পান। এর পরপরই এখানে অভিযান চালিয়ে এসব সম্পদ জব্দ করা হয়।
আ. লীগ নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে টাকা ভর্তি সিন্ধুক। ছবি সংগৃহীত

র‌্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত টাকা এখনো গণনা শেষ হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে টাকার অংক ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকাও হতে পারে। টাকা গোণার জন্য মেশিন আনা হয়েছে। পুরো সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া চলছে। এসব টাকা ট্র্যাংক, সিন্দুকসহ বিভিন্ন স্থানে সুন্দর করে থরে থরে সাজানো ছিল। এছাড়া ওই বাড়িতে বেশ কিছু ক্যাসিনো সরঞ্জামও পাওয়া গেছে, যেগুলোতে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সিল লাগানো ছিল বলে ফয়জুল ইসলাম জানান।

এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়া এখন কারাগারে আছেন। ক্যাসিনো কারবারি এই দুই ভাইকে গত জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বছর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর এই দুই ভাই আলোচনায় আসেন। শুরু থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। হচ

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল ও রূপনের আরেক বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাড়ে সাত কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এরপর সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

এনামুল ও রূপন গত ছয় থেকে সাত বছরে পুরান ঢাকায় বাড়ি কিনেছেন কমপক্ষে ১২টি। ফ্ল্যাট কিনেছেন ৬টি। পুরোনো বাড়িসহ কেনা জমিতে গড়ে তুলেছেন নতুন নতুন ইমারত। স্থানীয় লোকজন জানান, এই দুই ভাইয়ের মূল পেশা জুয়া। আর নেশা হলো বাড়ি কেনা।

জুয়ার টাকায় এনামুল ও রূপন কেবল বাড়ি ও ফ্ল্যাটই কেনেননি, ক্ষমতাসীন দলের পদও কেনেন বলে জানা যায়।

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে এনামুল পান গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ। আর রূপন পান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ। তাদের পরিবারের পাঁচসদস্য, ঘনিষ্ঠজনসহ মোট ১৭ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে পদ পান। তারা সরকারি দলের এসব পদ-পদবি জুয়া ও ক্যাসিনো কারবার নির্বিঘ্নে চালানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন বলে স্থানীয় লোকজন জানান।