leadnewsমতামতশিক্ষা

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রবিধান ২০১৯ এ কতিপয় বৈষম্যে ,অসংগতি ও সংবিধান লংঘন।

ফিরোজ আলম :ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রবিধান ২০১৯ প্রকাশিত হল ১৫ জুলাই ২০১৯ সালে।এতে বেশ কিছু বৈষম্যে এবং অসংগতি পরিলক্ষিত হয়।
ক•৭ পৃষ্ঠার ২.১ অনুচ্ছেদে অধ্যক্ষ নিয়োগের যোগ্যতায় বলা হয় যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অথবা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস অথবা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি,ইসলামিক স্টাডিজ, আল কোরআন/আল হাদীস/দাওয়া এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে অনার্স সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি যা বর্তমান আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক দেশের ৫৩ টি মাদ্রাসায় চালু আছে।উল্লেখিত বিষয় থেকে নির্ধারিত যোগ্যতা লাভ করলে অধ্যক্ষ হওয়া যাবে।কিন্তু আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ দেশের ২২ টি মাদ্রাসায় চালু থাকলেও এ বিভাগ থেকে পাস করা ছাত্র- ছাত্রীরা অধ্যক্ষ হতে পারবে না প্রবিধান অনুযায়ী। একই মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস এবং একই আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সধারী দুজন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ভিন্ন আইন আরবি বিশ্ববিদ্যালয় নিজ আইনের সাথে যেমনি সাংঘর্ষিক তেমনি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯(১) ও ২৯(২) আইনের সাথে ও সাংঘর্ষিক। খ• বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্র কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।২৯(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কেবল ধর্ম,বর্ণ,গোষ্ঠী, নারী পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারনে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মের নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হবেন না কিংবা তার প্রতি বৈষম্য করা হবে না। তাহলে স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর নামি দামি বিষয় কিংবা সেরা মেধাবি ছাত্র না হয় বাদ ই দিলাম কিন্তুএকই মাদ্রাসা থেকে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অনুযায়ী দাখিল,আলিম পাস করা এবং একই আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত সব বিষয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী যদি অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন করার যোগ্যতা পান তাহলে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত ইসলামের ইতিহাস ও “সংস্কতি,আইসিটি সহ অন্যান্য বিষয়ে যোগ্যরা অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের যোগ্যতা রাখবেন না কেন? এটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যমূলক নীতি নয় কী? এটি বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী নয় কী? গ• প্রবিধানের ১২ পৃষ্ঠার ২.১১ অনুচ্ছেদে গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ লাভের জন্য মাদ্রাসা বোর্ড কিংবা আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিষয়ে স্নাতক+ গ্রন্থাকার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমার কথা বলা হয়েছে।হয়ত যুক্তি আসতে পারে মাদ্রাসাতে আরবি বই আছে জেনারেল শিক্ষতরা ঐ পদে গেলে তারা অনেক বই আরবি কিংবা ফার্সিতে আছে তার নাম পড়তে পারবে না তার জন্য। যুক্তির খাতিরে মেনে নিলাম তা ঠিক আছে।কিন্তু মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও অালিম পাস এবং পরে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ইসলামের ইতিহাসে স্নাতকধারীরা কি আরবি কিংবা ফার্সি পড়তে অক্ষম হবে? বরং অনেক বেশি সক্ষম হবে।তাহলে কার স্বার্থে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী এমন স্বার্থান্বেষী চিন্তা? ঘ• প্রবিধানের ১১ পৃষ্ঠার ২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সহকারি অধ্যাপক পদে এমপিওভুক্তির ৮ বছর ফূর্তিতে ৫:২ অনুপাতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারন সাপেক্ষে ৯ম গ্রেড থেকে ৭ম গ্রেডে আসবেন।ধরে নিলাম ৫ জন প্রভাষক একই দিনে নিয়োগ পেলেন, একই সময়ে যোগদান ও করলেন তার পরও জ্যেষ্ঠতার কারনে দুই জন ৯ম গ্রেড থেকে ৭ম গ্রেডে বাকী তিন জন দুই বছর অপেক্ষার পরও ১০ বছর ফূর্তিতে ৯ম থেকে ৮ম গ্রেডে আসলেন।যা অসাংবিধানিক, অন্যায় ও বাস্তবতা বর্জিত প্রকাশ্য জুলুম।ঙ•প্রবিধানের ২৯ পৃষ্ঠার ১০ এর (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কোন কারনে অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে উপাধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হবেন।উপাধ্যক্ষ না থাকলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারি অধ্যাপকদের একজন সর্বাধিক এক বছরের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হবেন।এখানে স্পষ্ট যে ঐ জ্যেষ্ঠ সহকারি অধ্যাপক জেনারেল শিক্ষক ও হতে পারেন।এখন প্রশ্ন এই জেনারেল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যদি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন আর তাতে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বাধা ও না থাকে তাহলে ঐ একই ব্যাক্তি যোগ্যতা বলে স্থায়ী ভিত্তিতে কেন অধ্যক্ষ হতে পারবেন না? চ•প্রবিধানের ৭ পৃষ্ঠার ২.২ তে বলা আছে,কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ নিয়োগের যোগ্যতা হল নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা কিন্তু মুহাদ্দিস, মুফাসসির, আদিব ও ফকিহ হতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।যা হাস্যকর বোধ করি কারন উপাধ্যক্ষ পদটি উল্লেখিত বিষয়ের তুলনায় নিশ্চয় বড় পদ আর সেখানেই অভিজ্ঞতার বেশি প্রয়োজন।ছ•প্রবিধানের ফাজিল মাদ্রাসাতে ৩০০ নাম্বারের ৩ টি বিষয়ের ইসলামের ইতিহাস,২০০ নাম্বারের আরবি আছে,১০০ নাম্বারের আইসিটি আছে,২০০ নাম্বারের বাংলা আছে।কিন্তু প্রবিধানে ১২ পৃ: ২.৮ এবং ২.১০ অনুচ্ছেদে ২০০ নাম্বরের আরবি এবং ১০০ নাম্বরের আইসিটি প্রভাষক নিয়োগের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলে ও ৩০০ নাম্বারের ইতিহাস কিংবা বাংলা কিংবা ফাজিল সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রভাষক নিয়োগের বিষয়টি অস্পষ্ট।জ•প্রবিধানের ২১ পৃষ্ঠার ৩ নং অনুচ্ছেদে শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগ পরিক্ষার লিখিত ও মৌখিক বিষয়ের নাম্বার এবং পাস নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে।কিন্তু শিক্ষা সনদে ১২ নাম্বার রাখা হলে ও কোন সনদে কত হবে পাস নাম্বার তা উল্লেখ না হওয়ায় বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেল।ঝ•প্রবিধানের ৩৭ পৃ: ১৫ নং অনুচ্ছেদে ভবিষ্যত তহবিল,কল্যান ভাতা,অবসর ভাতা ও গোষ্ঠী বীমার কথা উল্লেখ আছে।প্রবিধানে ভবিষ্যত তহবিলে প্রতি টাকায় প্রতিষ্ঠান .১০ টাকা হারে এবং শিক্ষকরা ও সমান হারে দিবে উল্লেখ করা হলে ও কল্যান ও অবসর ভাতার পরিমান কত হবে তা অস্পষ্ট।
ফিরোজ আলম,প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান,আয়েশা( রা:) মহিলা কামিল(অনার্স,এম.এ) মাদ্রাসা,সদর,লক্ষীপুর। সাধারন সম্পাদক বিএমজিটিএ, লক্ষীপুর জেলা শাখা। মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় ।