leadnewsমতামত

শিক্ষকদের জন্য পে স্কেল ও মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষনা করা অপরিহার্য

ফিরোজ আলম:করোনায় আয় বেড়েছে ১০ ভাগ মানুষের।আয় কমেছে ৮০ ভাগ মানুষের। নিন্ম মধ্যবিত্ত  ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের মত শিক্ষক সমাজ ও হতাশ ও কষ্টে ধুঁকছে।শিক্ষকদের মধ্যে বড় স্কেলে চাকুরী করা শিক্ষকগন কিছুটা ভাল আছেন।প্রতিষ্ঠান প্রধানগন তো  আয় বেড়ে যাওয়াদের তালিকাতেই আছেন।মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গনিত,ইংরেজী,রসায়ন,পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষকগন ও টিউশন  পরিশ্রমের মাধ্যমে কিছুটা ভাল আছেন।যারা ভাল আছেন এমন শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১৫ থেকে ২০  শতাংশের কাছাকাছি।বাকী আশি ভাগ শিক্ষকই পরিবার চালাতে হীমশিম খাচ্ছেন।আরেকটু সহজ করে বললে বলা শিক্ষকরা  সবচেয়ে কষ্টে রয়েছেন সন্দেহ নাই।
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় ।
এমতাবস্থায় বিশেষ ইনক্রিমেন্ট কিংবা মহার্ঘ্য ভাতার বিকল্প নেই।সাথে সাথে পে স্কেল চালু করা অতীব জরুরী মনে করছি।
জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন,ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদেরকে রাস্তায় নামতে হবেনা কিন্তু শিক্ষকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে আজ।তাইতো গত ১৫ ই ফেব্রয়ারি তারিখে ১০ টি শিক্ষক সংগঠন জাতীয়করন,উৎসব ভাতা শতভাগকরন, বাজেটে শিক্ষা বরাদ্দ বাড়াতে  হবে সহ আট দফা দাবীতে সারাদেশে একযোগে বিশাল মানববন্ধন করেছে।২০১৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষনা হয়েছিল যা এখন ও কার্যকর রয়েছে।অথচ এই সময়কালে জীবন যাত্রার ব্যায় প্রায় দ্বিগুন হয়েছে।গত দুই বছরের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের পরিসংখ্যান করলে দেখা যায় যে দ্রব্যমূল্য, পরিবহন ব্যয়, বাসাভাড়া, শিক্ষার খরচ—সবই বেড়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে।
বাসাভাড়া, সন্তানের স্কুলে যাওয়া-আসার  রিকশাভাড়া,  চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ সব পণ্যের দামই বাড়তি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  যাওয়া-আসা করতেও বাসভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। কিন্তু একজন শিক্ষকের আয় দুই বছর আগে যা ছিল, এখনো প্রায় তা-ই আছে। সংসার চালাতে এখন প্রতি মাসেই ধারকর্জ করে চলতে হচ্ছে শিক্ষকদের।
 সাধারণ মানুষের কথা নাইবা বললাম। মানুষের ব্যয়ের বড় খাত চারটি—খাদ্য ও গৃহ  উপকরণ কেনা, বাসাভাড়া ও সেবার বিল, সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবহন। দেশে এই চারটি খাতেই একসঙ্গে পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম অবস্থা যাচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের।
টিসিবি, বিআরইসি ও সরজমিনে বাজার পরিদর্শন  সূত্র থেকে দেখা যায় ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সালে সয়াবিন তেলের লিটার ছিল ১০৪ টাকা ,বর্তমানে তা ১৬৫ টাকা, ৫লিটারের সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৪৬৫ থেকে ৫১০ টাকা,বর্তমানে তা৭৭০ থেকে  ৭৮০ টাকা।চিনি দাম ছিল ৫৪ টাকা প্রতি কেজি, বর্তমানে তা ৭৭ টাকা,আটার দাম ছিল ২৮ টাকা, বর্তমানে ৩৫ টাকা প্রতি কেজি,মশুর ডাল প্রতি কেজি ছিল ৫৬ টাকা, বর্তমানে তা ৯৭ টাকা,রান্নার গ্যাসের দাম ছিল ৮০০ টাকা ,বর্তমানে প্রায় ১২৪০ টাকা,এভাবে গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে,বিদ্যুৎ এর দাম ৬৬ শতাংশ বেড়েছে,পানির দাম  প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে,পরিবহন ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।এভাবে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে।অথচ গত আট বছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন   কাঠামোতে তেমন বৃদ্ধি দেখা যায় নি।এমতাবস্থায় চরম দিশেহারা শিক্ষক সমাজ।এই সমস্যা সমাধানে এখনি বিশেষ ইনক্রিমেন্ট ও ৩০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা চালু করা অতীব জরুরী।সাথে সাথে অতি দ্রুত পে স্কেল ঘোষনা করে শিক্ষকদের চেপে রাখা কষ্ট দূর করা জরুরী।তা না হলে আগামী নির্বাচনে এটির প্রভাব পড়বে সারাদেশের মানুষের মধ্যে।কারন এদেশের মানুষ এখনো শিক্ষকদের কে ভালবাসেন,বিশ্বাস করেন,তাদের কথা গুলো মূল্যায়ন করেন।
লেখক ও কলামিস্ট
ফিরোজ আলম,বিভাগীয় প্রধান(অনার্স,এম এ শাখা)।
আয়েশা( রা:) মহিলা কামিল(অনার্স,এম.এ) মাদ্রাসা,সদর,লক্ষীপুর।
মেম্বার কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটি,সাধারন সম্পাদক , লক্ষীপুর জেলা শাখা এবং সিনিয়র সাংগঠনিক  সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি,বিএমজিটিএ ।alamferoz4525@gmail.com