leadnewsঅপরাধ

ফতুল্লায় কিশোর হত্যায় তিন বন্ধু গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মোবাইলে গেমস্ খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কিশোর মো. রবিন (১৭) হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফতুল্লা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবক নিহতের ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে অনিক হাসান, মাহিন ও হোসেন নামের তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে ওই তিনজনে আদালতে পাঠানো হয়েছে জানিয়েছেন রকিবুজ্জামান।

ওসি রকিবুজ্জামান আরো জানান, এর আগে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সংঘর্ষে নিহত কিশোর রবিনের বাবা মো. ইমাম হোসেন মাইজ ভান্ডারি বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় বলা হয়েছে, মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রবিন দিনভর বাড়িতে ছিল। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সোমবার বিকাল ৫টায় অনিক হোসেন রবিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নরসিংপুর এলাকার একটি বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। বিকাল পৌন ৬টায় শাওন হোসেন, অনিক হোসেন, আরমান, সুজন, সোহাগ, মাহিনসহ অজ্ঞাত ১০ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রবিনের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। হামলাকারীদের আঘাতে রবিনের অপর এক বন্ধু মুন্নাকেও কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা রবিন ও মুন্নাকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার রবিনকে মৃত ঘোষণা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিহত মো. রবিন ফতুল্লার মুসলিননগর নয়াবাজার এলাকার মো. ইমাম হোসেন মাইজ ভান্ডারি ছেলে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফতুল্লা) নাজমুল হাসান জানান, সন্ধ্যায় মুসলিম নগর এলাকায় মোবাইল ফোনে ফ্রি ফায়ার গেম্স খেলাকে কেন্দ্র দুই গ্রুপরে মধ্যে সংর্ঘষ বাঁধে। এ সময় রবিন নামে নামে এক যুবককে ইট দিয়ে আঘাত ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে। যারা যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হবে বলে জানান তিনি।

নিহতের মামা নাজমুল হাসান জানান, রবিন বিসিক এলাকায় পুরি ও সিঙ্গারা বিক্রি করে। আজ তার দোকান বন্ধ ছিল। এ কারণে সে বাড়ির সামনে বসে ছিল। ওই সময় তার সঙ্গে তর্কবিতর্কের জেরে তাকে হত্যা করা হয়। আমি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছি। যারা আমার ভাগিনাকে হত্যা করেছে তাদের শাস্তি চাই।