leadnewsসারা দেশ

এনজিও’র ঋন এখন রুমানার গলার কাটা

বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: ‘এহন আমারা কী করমু, বুইজ্জা ওঠতে পারতাছি না। করোনার কারনে কাজকাম বন্ধ থাকায় এনজিও’র কিস্তির টাহা দিতে পারি নাই। এহন আবার মামলা খাওয়ার হুমকি দিছে সারে। ঋন নিয়া ছিলাম সুবিধার জন্য, এহন দেহি ওই ঋন আমার গলার কাটা হইয়া দাড়াইছে।’ এভাবেই আক্ষেপ করে কতাগুলো বললেন পল্লী জন উন্নয়ন নামে এক এনজিও’র সদস্য রুমানা আক্তার। পটুয়াখালীর বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের সুলতানাবাদ গ্রামে তাঁর বাড়ি। ওই এনজিও’র সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় রুমানা আক্তারের বিরুদ্ধে ঋন খেলাপির দায়ে মামলা দায়ের করার হুমকি প্রদান করেছেন এনজিও’র কালাইয়া শাখা ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল আলম । এতে ঋন গৃহীতা ওই সদস্যের পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন পরিবারটি। ওই সদস্যের স্বামী হানিফ ফকির বলেন, আজ রবিবার সাপ্তাহিক কিস্তি নিতে আসেন জুনিয়র ফিল্ড অফিসার রিপা বেগম। আমার স্ত্রী রুমানা আক্তার ওই কিস্তি পরিশোধ করতে পারবে না বলে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাঠ কর্মী রিপা বেগম। এ সময় নানান ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন ওই মাঠকর্মী। পরে আমি শাখা ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল স্যারের কাছে মোবাইলে কল দিয়ে কিস্তি এ সপ্তাহে না দিয়ে আগামী সপ্তাহে দিব বলে জানাই। তখন ওই শাখা ব্যবস্থাপক স্যারে বলেন, আপনাকে আজই কিস্তি দিতে হবে। টাকা পকেটে রেখে কিস্তি দিতে চাচ্ছেন না। আপনার নামে মামলা দায়ের করা হবে। আপনাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে আনা হবে। স্যারের এমন হুমকীতে আমি ও আমার স্ত্রী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি।
পল্লী জন উন্নয়ন এনজিও’র কালাইয়া শাখা ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল আলম ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের কাছে থেকে কিস্তির টাকা নিয়ে যাচ্ছে । এ সময়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’র (এমআরএ) প্রজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করা হলে ওই ব্যবস্থাপক প্রজ্ঞাপনকে ভুয়া বলে অভিহিত করেন ।
উল্লেখ্য,ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’র (এমআরএ) এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,সারা দেশে করোনা সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন গ্রাহক যদি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে তাদের ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ঋণকে নিয়মিত রেখে প্রয়োজনে নতুন ঋণ দিতে হবে।