ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৬, জেগে উঠেছে আগ্নেয়গিরি
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে। দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও ছয় শতাধিক মানুষ। রবিবার দেশটির দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থার (বিএনপিবি) বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভূমিকম্পের দুই দিন পরও ধসেপড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সকালে সুলাওয়েসি দ্বীপের মাজেনে শহরে শক্তিশালী ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মাজেনে শহর থেকে ৩ দশমিক ৭৩ মাইল উত্তর-পূর্বে মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পে হতাহতের পাশাপাশি অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে আছেন। কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। আরও ভূমিকম্প হতে পারে এবং তা সুনামি ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্প ৩০০ ঘরবাড়ি, দুটি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি হাসপাতাল ও প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় ধসে পড়েছে।
এসব জায়গায় ধ্বংসস্তুপের নিচে কিছু মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কয়েক জায়গায় ভূমিধস হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকায়, সেতু ক্ষত্রিগ্রস্ত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এরই মধ্যে ভয়ংকরভাবে জেগে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সেমেরু। ধোঁয়ায় অন্ধকার নেমে এসেছে আশপাশের গোটা এলাকায়। আকাশে প্রায় ৫.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠে যায় আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া। স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবল আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিবিসির বরাতে জানা যায়, আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠায় এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর মেলেনি। তবে কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের সতর্ক করে বলেছে, অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি নেমে আসতে পারে লাভাস্রোতও।
কুরাহ কোবোকান নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য “কোল্ড লাভা” কাদা প্রবাহের দিকে নজর রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও আগ্নেয়গিরির উপাদানের সাথে তীব্র বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (এনডিএমএ)।

You must be logged in to post a comment.